Published : 09 Jul 2025, 04:50 PM
বর্তমান বিশ্বে নৈতিকতার প্রশ্নটি ক্রমেই সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠছে। নৈতিকতা কেবল ভালো ও মন্দ কাজের ফারাক তৈরি করছে না, কেবল পরজীবনে শান্তি বা শাস্তি নির্ধারণ করছে না, কিংবা শুধুই ব্যক্তিগত আদর্শিক টানাপড়েন প্রতিফলিত করছে না–আজ বিশ্ব ও মানবসভ্যতার অস্তিত্বই নির্ভর করছে নৈতিকতার সঠিক বোঝাপড়া ও তার বিজয়ের ওপর।
চলমান সভ্যতার গতি যে অভিমুখে এগোচ্ছে, তা পৃথিবীতে সামান্য কিছু মানুষের জন্য বেহেশতের সুখ নিয়ে এসেছে। বাকিদের ঠেলে দিচ্ছে নরক যন্ত্রণার কঠিন পরিণতির দিকে। এই ব্যবস্থার মূল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য—মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতার অভাব। আধুনিক সভ্যতায় একমাত্র গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে লাভ, সাফল্য, বিজয় ইত্যাদি। নৈতিকতা ক্রমশ অবান্তর ও পশ্চাৎপদ মানসিকতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চালাক ও বুদ্ধিমান মাত্রই লাভ, সাফল্য ও বিজয়ের পক্ষ নিচ্ছে। আদর্শ, নৈতিকতা, কর্তব্য ও সততার পক্ষে থাকা যেন আজকের বিশ্বে নির্বুদ্ধিতা, অশিক্ষা ও বোকামির পরিচয়! সমগ্র শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও পুনর্গঠিত হচ্ছে লাভ, সাফল্য ও বিজয়কে কেন্দ্র করে—নৈতিকতা যেন গরিবের বিলাসিতা মাত্র। বাংলার 'লাভ' বা 'লোভ' এবং ইংরেজি 'লাভ' শব্দটির মধ্যেও যে একটি ভয়ানক সাযুজ্য তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
আজকের মুনাফামুখী বিশ্বে নৈতিকতা এক অপছন্দনীয় ঝামেলা, মানবিকতা প্রযুক্তির অগ্রগতির পথে এক বাধা, আর আবেগ-অনুভূতি যেন অর্থহীন রাসায়নিক ক্রিয়াবিক্রিয়া মাত্র। তবে হত্যার সিদ্ধান্ত, জবরদখলের ইচ্ছা, যেকোনো উপায়ে মুনাফা অর্জনের প্রবণতা, পরধর্মের প্রতি ঘৃণা, পরদেশ ও পরজাতির প্রতি অবজ্ঞা, এবং জোর যার, মুল্লুক তার—এই নীতিগুলোর ঊর্ধ্বে যেন আর কিছুই নেই!
রাত থাকলে যেমন দিন থাকে, তেমনি অনৈতিকতা থাকলে নৈতিকতাও অনিবার্য। তাই এ প্রশ্নটি বায়বীয় বা ফাঁপা নয়, বরং মানবিক সমাজ গঠনের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্সের নামটি অনিবার্যভাবেই চলে আসে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মার্ক্স ও এঙ্গেলস নৈতিকতাকে একটি বুর্জোয়া ব্যাপারমাত্র হিসেবে দেখেছেন এবং শ্রেণিসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নকে অবান্তর বলে মনে করেছেন।
এই ধারণাটি বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্য এক ধরনের ফাঁদে পরিণত হয়েছিল। ফলে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষায় গঠিত সাম্যবাদী আন্দোলন নৈতিক বিবেচনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে আশু বিজয়ের রথে চড়ে বসেছিল। পরবর্তীকালে, গত শতাব্দীর শেষ দিকে, বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট সরকারগুলোর পতনের সময় থেকে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে নৈতিকতার সম্পর্কেই প্রশ্নগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
যেমন, পরদেশ দখল করে একই ভাবাদর্শের বশংবদ সরকারকে ক্ষমতায় বসানো, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ, গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কত্ব কায়েম, রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের দখল ও অপব্যবহার ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন নৈতিকতাসংলগ্ন। রাষ্ট্রে নাগরিকের সমতা প্রতিষ্ঠার নামে এসব আদর্শিক ব্যর্থতা তাদের আকাশচুম্বী ত্যাগ ও তিতিক্ষাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। প্রশ্নগুলো যথার্থ ছিল।
তৎকালীন পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহ যথার্থভাবেই এই প্রশ্নগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাই নিহিত আছে নৈতিক প্রশ্নে। দেশে দেশে সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকারগুলোর পতনের পর থেকেই এই বিষয়টি দ্রুতগতিতে স্পষ্ট হতে শুরু করে।
অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণিত হয়ে যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বিশ্ব যুদ্ধ ছাড়া একদিনও টিকে থাকতে অক্ষম। যুদ্ধ যেন তাদের বেঁচে থাকার ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন। আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণ থেকে শুরু করে গাজায় চলমান গণহত্যা এবং ইরানের ওপর হামলা—সবকিছুই এক নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধযাত্রার অংশ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় অনেকদিন ধরে যুদ্ধবাজরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর এখন যে লোকটি এই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, সেই ডনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত ফ্যাসিবাদের পথে ধাবিত হচ্ছেন। তবে এই অন্ধকার গহ্বরেও একমাত্র আশার আলো হলো—নৈতিকতার প্রশ্নে আলোড়িত অগণিত মানুষ। তারা মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ চায়। সবচেয়ে বেশি ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে পশ্চিমা বিশ্বের বুকেই আন্দোলনরত তরুণ-তরুণী ও ছাত্রছাত্রীরা।
আধুনিক সভ্যতাগর্বী পুঁজিবাদী বিশ্বের এই নৈতিক সংকটে সেখানকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তারা ঝুঁকছে ধর্ম ও সাধু-সন্তদের জীবনচর্চার দিকে। কেউ কেউ আবার উদ্ভট জীবনাচরণ ও জীবনযাপনের মধ্যে সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে চলেছে। তরুণ প্রজন্ম মার্কস-এঙ্গেলসের চিন্তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছে এবং বামপন্থার দিকে ঝুঁকছে। অনেকেই সমাজ ও জীবনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে নৈতিক কম্পাস খুঁজে পাচ্ছেন মার্কসের দর্শনে।
ঠিক এ সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান ভানেসা উইলসের মার্ক্স’স এথিক্যাল ভিশন (মার্ক্সের নৈতিক দর্শন) বইটি। ভানেসা উইলস জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে দর্শনের সহযোগী অধ্যাপক। তার এ বইটি লেখার প্রেক্ষাপটও পশ্চিমা রাজনীতির নৈতিক দেউলিয়াত্ব।
২৩ অগাস্ট আগস্ট ২০২৩-এ জ্যাকোবিনে ড্যানিয়েল ফ্যালকনের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভানেসা বলেন: “যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করল। আমি বুঝলাম যে, এই যুদ্ধ বোঝার তাত্ত্বিক কাঠামো আমার কাছে নেই—কীভাবে আমাদের নেতারা এরকম নির্বুদ্ধিতামূলক ও অনৈতিক কাজ করতে পারে? নির্বুদ্ধিতামূলক কারণ এই যুদ্ধ বিশ্বকে আরও যুদ্ধ ও সীমাহীন সংঘর্ষের পথে চালিত করবে—তাই হয়েছে। অনৈতিক, কারণ স্পষ্ট। আমি আসলে যুদ্ধ নিয়ে আমার এই হতবুদ্ধিতা কাটানোর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি ছিলাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গেলাম আর প্রতিবাদে যোগ দিতে শুরু করলাম। আমি শিগগিরই প্রতিবাদ সংগঠিত করতে শুরু করলাম। ইরাকে হামলার আগে যে আমি কেবল দুয়েকটি প্রতিবাদে গিয়েছি, সেই আমি হয়ে উঠলাম একজন সংগঠক।”
এরপর সমাজতন্ত্রীদের সংস্পর্শে এসে মার্ক্সের ঐতিহাসিক বস্তুবাদের প্রতি ভানেসা উইলসের আগ্রহ জন্মায় এবং তিনি তাতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। তার এই বৌদ্ধিক অভিযাত্রার ফলাফল হিসেবে ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় বইটি। উইলস স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন—নৈতিক প্রশ্নটি মার্ক্সের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও পরবর্তীকালে তিনি শ্রেণীসংগ্রামের ওপর সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।
প্রচলিত নৈতিকতাকে মার্ক্স এবং তার অনেক রাজনৈতিক অনুসারী শ্রমজীবী মানুষকে শোষণের একটি কূটকৌশল হিসেবে মনে করতেন—এই কারণেই বুর্জোয়া নৈতিকতার প্রতি তাদের তীব্র বিদ্বেষ ছিল। কিন্তু মার্ক্সের সমাজ পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, তার মূল প্রেরণা নিহিত ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সেই গভীর অন্যায়ে, যেখানে সম্পদ যে সৃষ্টি করে সে তা পায় না—উৎপাদনের যন্ত্র ও পুঁজির মালিকেরা তা চুরি করে নেয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন। তবে মার্ক্স জানতেন, এই অনৈতিক অবস্থার জন্ম কেবল কারো শুভ বা অশুভ ইচ্ছা থেকে নয়—এর উৎপত্তি সমাজে সম্পদ সৃষ্টির ব্যবস্থাগত কাঠামো থেকে। আর এই অবস্থার থেকে মুক্তির পথও কেবল নৈতিক বোধে নিহিত নয়—মানবমনের অন্তর্গত ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরের এক বাস্তব সামাজিক কাঠামোর মধ্যেই সেই উত্তর নিহিত।
পশ্চিমা রাজনীতির এই নৈতিক সংকট, যার শিকড় নিহিত অন্যের শ্রম চুরির মধ্যে, তা ক্রমে বিকশিত হয়ে এখন এক চরম রূপ লাভ করেছে। এরই ফলে ২১ মাস ধরে গাজায় চলমান লাগাতার গণহত্যা এখনও পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক ঐক্যে কোনো ফাটল ধরাতে পারেনি।
এই কারণেই বিবিসি, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের খ্যাতনামা সাংবাদিকরাও ইসরায়েলি গণহত্যাকে স্রেফ ‘যুদ্ধ’ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন—অর্থাৎ প্রকারান্তরে সেটিকে সমর্থন করছেন এবং পরোক্ষভাবে বৈধতা দিচ্ছেন। ইরানে হামলা নিয়ে তারা কোনো বৈধতার প্রশ্ন তোলেননি, আন্তর্জাতিক আইন বা মানবাধিকার সংক্রান্ত ন্যূনতম আলোচনাও করেননি।
সমগ্র পশ্চিমা রাজনীতি এবং তার দ্বারা প্রভাবিত জনমানসের যুক্তি যেন এমন—যেহেতু ইরান দুর্বল আর ইসরায়েল শক্তিশালী, তাই ইসরায়েলের ইরান হামলা আত্মরক্ষার নামে স্বাভাবিক! যেহেতু গাজার নিরীহ জনগণের তুলনায় ইসরায়েলি সেনারা কয়েক লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী, তাই তাদের পক্ষেই সাফাই গাইতে হবে—আর গাজার মানুষই যেন সবকিছুর জন্য দায়ী!
নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী সংবাদমাধ্যম এবং সাহসী সাংবাদিকও অনেকেই আছেন—যারা কখনও অনৈতিক শক্তির কাছে মাথা নত করেন না। নৈতিক দৃঢ়তা এবং সত্য বলার জন্য চাকরি হারিয়েছেন কেউ কেউ, কেউ কেউ আবার সত্য বলতে না পারায় চাকরি ছেড়েছেন, যেমন, এমএসএনবিসির মেহেদি হাসান, এলবিসির সঙ্গীতা মিসকা, স্কাই নিউজের বেল ডোনাটি, দ্য হিলের ব্রিয়ানা জয়ে গ্রে ও কেটি হার্পার প্রমুখ। মেহেদি বর্তমানে স্বাধীনভাবে সত্যসন্ধানী জেটেও-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। ডেমোক্রেসি নাও-এর আ্যমি গুডম্যান, পিয়ার্স মরগ্যানের কথাও বলা যায়। খোদ ইসরায়েলের বিখ্যাত পত্রিকা ‘হারেৎজ’-এর সাহসী নৈতিক অবস্থানের কথা না বললেই নয়।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে নৈতিকতার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বিংশ শতাব্দীর সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। রেজা বেহনাম প্যালেস্টাইন ক্রনিকলে (৩ জানুয়ারি ২০২৪) লিখেছেন, “২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা যখন গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করে, তার বহু আগেই বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তি নেতা এবং বিশ্বব্যাপী ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আমাদের কালের সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রশ্ন’। তিন দশক পার হয়ে গেছে এই উক্তির পর। কিন্তু তা তখন যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল, এখন আরও বেশি।”
নেলসন ম্যান্ডেলা যদি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতেন, তাহলে ঠিক এই কথাটি বলার জন্য হয়তো তাকে ট্রাম্পের নির্দেশে জেলে যেতে হতো। এই কল্পনাই আমাদের বুঝিয়ে দেয়—পশ্চিমা পুঁজিবাদী সভ্যতার নৈতিক দেউলিয়াপনা এখন কতটা গভীরে পৌঁছেছে।
তবে এর মানে এই নয় যে প্রাচ্য নৈতিকতার নিরিখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আদর্শ ও নৈতিকতা সেখানেও কম-বেশি মুখ থুবড়ে পড়ছে। আর বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা মানবসভ্যতাকে প্রতিদিন সেই নৈতিক শূন্যতার দিকেই ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
নৈতিকতার প্রশ্ন তাই কেবল জরুরি নয়—আজকের এই জমানায় তা হয়ে উঠেছে প্রধানতম বিষয়।